শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

‘আন্তর্জাতিক টেলিকম অপারেটরদের আঞ্চলিক কেন্দ্র হবে বাংলাদেশ’

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ২০ আগস্ট ২০১৫ - ১১:৪০:১৬ এএম

টাইমস বিডি ডটনেটঃ শিগগির বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বড় টেলিকম কোম্পানিগুলোর আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। শুধু তাই নয়, অচিরেই বাংলাদেশ এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হতে পারে। সম্প্রতি দুদিনের বাংলাদেশ সফরকালে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইডটকোর গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) সুরেশ সিধু এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বিকাশমান টেলিকম সেক্টরে বাংলাদেশের সম্ভাবনার নতুন নতুন দুয়ার খুলছে। এই সেক্টরে রয়েছে বিশাল দক্ষ, পরিশ্রমী ও সৎ কর্মী বাহিনী। যার কারণে মাত্র অল্প সময়ে ১৩ কোটির বেশি মোবাইল ফোন গ্রাহক তৈরি হয়েছে।

সিধু বলেন, এখন সময় এসেছে গ্রাহক সেবার মান নিশ্চিত করার। এজন্য অপারেটরদের প্রধান লক্ষ্যই হল পরিচালন ব্যয় কমানোর চেয়ে গ্রাহক সেবায় বেশি মনোযোগ দেয়া। পরিচালন ব্যয় কমাতে পারলেই কোম্পানিগুলো টাওয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার মান নিশ্চিত করতে পারবে। ইডটকো মূলত টাওয়ার ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। এশিয়ার ৫টি দেশে প্রতিষ্ঠানটি টাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ব্যবসা করছে। মালয়েশিয়ার আজিয়াটা বারহাদ গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশেও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নিয়ে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এটি সীমিত আকারে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি বাংলাদেশের বাজারে টাওয়ার ব্যবসার জন্য ইডটকোকে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে জন্য নীতিমালাও চূড়ান্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুরেশ সিধু বলেন, নীতিমালা হচ্ছে- এটা তারা জানেন। তবে এর কোনো কপি তারা পাননি। সিধু বাংলাদেশের রেগুলেটরের কো-অপারেশনকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব একটি দেশ। সরকার নিশ্চয় এমন একটি নীতিমালা তৈরি করবে, যেখানে তাদের কাজ করার সুযোগ থাকবে। বিটিআরসির এনওসির ওপর ভিত্তি করে ইডটকো ইতিমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে বলে জানান সিধু। তিনি বলেন, তারা এখানে আরও বিনিয়োগ করতে চান। সে জন্য নীতিমালাটি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

সিধু জানান, নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট টাওয়ারের পাওয়ার ব্যাক, সিকিউরিটি এনশিওর করার মতো কাজগুলো তারা সমন্বতিভাবেই করতে চান। লম্বা লম্বা টাওয়ারের বদলে এখন অনেক দৃষ্টিনন্দন টাওয়ার কাঠামোও এসেছে। সেগুলোও তারা এখানে নিয়ে আসতে চান। তিনি বলেন, এ খাতে বিনিয়োগটা দীর্ঘ মেয়াদি। কিছু টাকা খরচ করে ব্যবসা করে ফুলেফেঁপে চলে যাওয়ার মতো কোনো সুযোগ নেই। তারা বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘ সময় থাকতে চায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইন রীতি-নীতি ও সেখানকার সংস্কৃতি পুরোপুরি মেনে নিয়েই তারা কাজ করতে চায়। অবকাঠামো শেয়ারিংয়ের সিস্টেম থাকার পরেও এ ধরনের কোম্পানির প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবকাঠামো ভাগাভাগির কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এ জন্য এটি হয়তো যেভাবে আশা করা হয়েছিল সেভাবে সাড়া ফেলেনি। তবে টাওয়ার কোম্পানি যেহেতু একটা আলাদা কোম্পানি, যার কাজ কেবল টাওয়ার ম্যানেজ করা সুতরাং এখানে মোবাইলফোন, পিএসটিএস, আইএসপি, বিডব্লিউএ অপারেটরসহ যারা প্রযুক্তিগত সেবা দিচ্ছেন তাদের সিকিউরিটি কিংবা কোনো রকমের সংকটের আশংকা নেই। সুরেশ সিধু আরও বলেন, তারা পুরোপুরি কাজ শুরু করলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। কর্ম হারানোর আশংকা নেই।

শ্রীলংকা ও মালয়েশিয়ার মতো দেশের কাজের অভিজ্ঞতা টেনে বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, টাওয়ার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে যদি তারা দীর্ঘ সময় ব্যয় করে তাহলে মানসম্পন্ন সেবা দেয়ার সুযোগ পাবে না। তার মতে, বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠানের একই রকমের স্থাপনা একাধিক রয়েছে। এটা অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয় বাড়ায়। এসব ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং স্থাপনার অবচয় কমিয়ে কার্যকর ব্যবসা নিশ্চিত করতে চায় ইডটকো। এতে বাংলাদেশ লাভবান হবে। এনার্জি সেভ হবে। ল্যান্ড সেভ হবে। শহরের সৌন্দর্যও বাড়বে। চোখ খুললেই কেবল টাওয়ার নয়, ছাদের ওপর বিনোদন ও বাচ্চাদের ঘুড়ি ওড়ানোরও সুযোগ তৈরি হবে।

সিধু বলেন, যেসব দুর্গম এলাকায় অপারেটররা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে পারবেন না সেখানে ইডটকো টাওয়ার সেটআপ করবে। এই প্রতিষ্ঠানের কাজই হল মানুষকে কানেক্ট করার জন্য অবকাঠামো ভাগাভাগি করা। বিটিআরসি কি দুটো কোম্পানিকে টাওয়ারকো লাইসেন্স দেবে? এ প্রশ্নের জবাবে সুরেশ সিধু বলেন, বাজারের যে সাইজ তাতে এটা আরও বেশিও হতে পারে। তবে আমরা কার্যকর ব্যবস্থাপনার কথা বলছি। তাহলে সেটার একটা রিফ্লেকশন নীতিমালা থাকবে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!