শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

নাটকের বরপুত্র- সেলিম আল-দীন

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ১০ আগস্ট ২০১৫ - ০৯:৫৯:১১ এএম

রবীন্দ্র-উত্তরকালে বাংলা নাটকের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন। বাংলা নাটকের শিকড় সন্ধানী নাট্যকার ও স্বাধীনতা পরবর্তী নাট্য আন্দোলনের নেতা সেলিম আল-দীন ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক। পথনাটক আন্দোলনের মাধ্যমে নাটক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। নাটক লেখার পাশাপাশি গড়ে তোলেন নাটকের দল ঢাকা থিয়েটার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠা সেলিম আল দীনের হাত ধরেই।

জন্ম ও পরিবার:

সেলিম আল-দীন ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে ১৯৪৯ সালের ১৮ই আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মফিজউদ্দিন আহমেদ এবং মাতার নাম ফিরোজা খাতুন। সেলিম আল-দীন ১৯৭৪ সালে বেগমজাদী মেহেরুন্নেসার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

শিক্ষাজীবন:

সেলিম আল-দীনের বাবার চাকরি ছিল বদলির। সেলিম আল-দীনের শৈশব ও কৈশোর সময় অতিবাহিত হয়েছে ফেনী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রংপুরে। সেই সুবাদে সেলিম আল-দীনের শিক্ষাজীবনও বিভিন্ন জায়গায় অতিবাহিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল অর্জন করেছেন জন্মস্থান ফেনী থেকেই। ১৯৬৪ সালে ফেনীর সেনেরখিলের মঙ্গলকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন৷ ১৯৬৬ সালে ফেনী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন৷ ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন৷ দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে গিয়ে ভর্তি হন টাঙ্গাইলের করোটিয়ায় সাদত কলেজে৷ সেখান থেকে স্নাতক পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন৷ ১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন সেলিম আল দীন৷

নাটকের হাতে খড়ি:

বই পড়ার প্রতি সেলিম আল-দীনের ছোটবেলা থেকেই বিশেষ ঝোঁক ছিল। হাতের কাছে বই পেলেই তা পড়ে ফেলতেন। এভাবেই ধীরে ধীরে লেখালেখির প্রতি তার আকর্ষণ জন্মে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই তিনি লেখালেখির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সময়টা ছিল ১৯৬৮ সাল, কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত “দৈনিক পাকিস্তান” পত্রিকায় আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে লেখা তার প্রথম বাংলা প্রবন্ধ “নিগ্রো সাহিত্য” ছাপা হয়। এই প্রবন্ধটির মাধ্যমেই লেখক হিসেবে সেলিম আল-দীনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে সেলিম আল-দীন ঢাকা থিয়েটারের সাথে যুক্ত হন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “মধ্যযুগের বাংলা নাট্যরীতি” নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন।

সেলিম আল-দীনের প্রথম নাটক “বিপরীত তমসায়” ১৯৬৯ সালে রেডিওতে প্রচারিত হয়। এরপর ১৯৭০ সালে আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় “লিব্রিয়াম” নামের একটি নাটক ১৯৭০ সালে টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। অবশ্য পরে “লিব্রিয়াম” নাটকটির নাম পরিবর্তন করে “ঘুম নেই” রাখা হয়। ১৯৭২ সালে আমিরুল হক চৌধুরী নির্দেশিত এবং বহুবচন প্রযোজিত তার প্রথম মঞ্চনাটক “সর্প বিষয়ক গল্প” মঞ্চায়িত হয়।

বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্য বিষয়ক কোষগ্রন্থ “বাংলা নাট্যকোষ ” সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদনা করেছেন। তার রচিত “হরগজ” নাটকটি সুয়েডীয় ভাষায় অনূদিত হয় এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল হিন্দি ভাষায় মঞ্চায়ন করেছে। সেলিম আল-দীন রচিত নাটকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ (১৯৭৫),  ‘বাসন’ (১৯৮৫),  ‘মুনতাসির’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’ (১৯৮৬), ‘কেরামতমঙ্গল’ (১৯৮৮), ‘যৈবতী কন্যার মন’ (১৯৯৩), ‘চাকা’ (১৯৯১), ‘হরগজ’ (১৯৯২), ‘প্রাচ্য’ (২০০০), ‘হাতহদাই’ (১৯৯৭), ‘নিমজ্জন’ (২০০২), ‘ধাবমান’, ‘স্বর্ণবোয়াল’ (২০০৭), ‘পুত্র’।

সেলিম আল-দীন রচিত গীতিনৃত্যনাট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে –
‘স্বপ্ন রজনীগণ’‘ঊষা উত্সব’
“বিপরীত তমসায়” ও “ঘুম নেই” ছাড়াও রেডিও-টেলিভিশনে সেলিম আল-দীনের অসংখ্য নাটক প্রচারিত হয়। এগুলো হলো –

‘বিপরীত তমসায়’ (রেডিও পাকিস্তান, ১৯৬৯), ‘ঘুম নেই’ (পাকিস্তান টেলিভিশন, ১৯৭০), ‘রক্তের আঙ্গুরলতা’ (রেডিও বাংলাদেশ ও বিটিভি), ‘অশ্রুত গান্ধার’ (বিটিভি, ১৯৭৫), ‘শেকড় কাঁদে জলকণার জন্য’ (বিটিভি, ১৯৭৭), ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’ (আয়না সিরিজ, বিটিভি, ১৯৮২-৮৩), ‘গ্রন্থিকগণ কহে’ (বিটিভি, ১৯৯০-৯১), ‘ছায়া শিকারী’ (বিটিভি, ১৯৯৪-৯৫), ‘রঙের মানুষ’ (এনটিভি, ২০০০-২০০৩), ‘নকশীপাড়ের মানুষেরা’ (এনটিভি, ২০০০), ‘কীত্তনখোলা’ (আকাশবাণী কোলকাতা, ১৯৮৫)

সেলিম আল-দীনের গবেষণাধর্মী নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে – ‘মহুয়া’ (ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে, ১৯৯০), ‘দেওয়ানা মদিনা’ (ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে, ১৯৯২), ‘একটি মারমা রূপকথা’ (১৯৯৩), ‘কাঁদো নদী কাঁদো’, ‘মেঘনাদ বধ’ (অভিষেক নামপর্ব)।

সেলিম আল-দীনের টিত্রনাট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে – ‘চাকা’ নাটক অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয় ১৯৯৪ সালে, ‘কীত্তনখোলা’ নাটক থেকে চলচ্চিত্র নির্মিত হয় ২০০০ সালে, ‘একাত্তরের যীশু’ চলচ্চিত্রের সংলাপ রচনা করেন ১৯৯৪ সালে।

নাটক ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সেলিম আল-দীন “দিনলিপি” ও ভাঙা প্রেম অশেষ বিশেষ” নামে দুটি বই রচনা করেন। এছাড়া সেলিম আল দীন রচনাসমগ্র ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ খণ্ড সাইমন জাকারিয়া’র সংকলন-গ্রন্থন ও সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!