শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

নির্মাণ শুরু হলো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ১৬ আগস্ট ২০১৫ - ০৭:৪৭:১৫ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : যানজটমুক্ত রাজধানী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নেয়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (উড়াল সড়ক) নির্মাণকাজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আজ রোববার শুরু হয়েছে এর নির্মাণ কাজ।

বেলা ১১টায় বিমানবন্দর এলাকায় এই কাজের শুভ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রেল লাইনের উপর দিয়েই নির্মাণ হবে এ সড়ক। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী (যাত্রাবাড়ী) পর্যন্ত হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা।

জানা গেছে, ২০১১ সালে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড নামক জয়েন্ট ভেঞ্চার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যখন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম চুক্তি হয়, তখন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১১ হাজার ১০ কোটি টাকা। কিন্তু সময়মতো কাজ না হওয়ায় ২০১৩ সালে এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৪০৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয় হবে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সরকারের ব্যয় হবে ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব এমএএন সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হলো। ঢাকাবাসীর যাতায়াত সহজ করতে বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১১ সালে। ওই বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রথম চুক্তি সম্পাদন হয় নির্মাণ-প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে। চুক্তির পরপরই কাজ শুরু হওয়া কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কিছুই করতে পারেনি।

এরপর ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকার আবারও চুক্তি করে একই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায় ৩৯৫ কোটি টাকা। এরপর দেড় বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এমনকি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বেঁধে দেয়া সময়ও একাধিকবার পার হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়রা বিরোধিতা শুরু করলে জটিলতা দেখা দেয়। এর ফলে নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। সংশোধিত নকশা অনুযায়ী প্রকল্পের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি লাগবে ২৬ দশমিক ০১৯৪ একর। প্রথম নকশায় কাজ করলে জমি লাগত ৪৩৬ একর। সংশোধিত নকশায় ওঠা-নামার র‌্যাম্পের অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের রুট হবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেঁজগাও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুতুবখালী)। বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত এর মূল সেতু হবে ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ওঠা-নামার জাম্প হবে ৩১টি।

এসব জাম্পের দৈর্ঘ্য হবে ২৭ কিলোমিটার। বিমানবন্দর মোড় থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত সব গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ওঠা-নামা করা যাবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি বিমানবন্দর থেকে সায়েদাবাদ এসে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের সঙ্গে যুক্ত হবে। এরপর ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে যাত্রাবাড়ী হয়ে কুতুবখালী যাবে। জানা গেছে, ২০১১ সালের এপ্রিলে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কাজ না করায় দীর্ঘদিন বিষয়টা চাপা পড়ে থাকে।

নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে এই উড়াল সড়ক ও পদ্মা সেতু একসঙ্গে চালু করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমতাই কারনা সুতা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!