শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার যড়যন্ত্রের খবর জানত ‌‘র’-‘সিআইএ’

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ১৫ আগস্ট ২০১৫ - ১১:২০:৩২ এএম

টাইমস বিডি ডটনেটঃ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেই কালো দিনে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার আগে কয়েক দফায় বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করা হয়েছিল ওই ধরনের অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (RAW)-এর পক্ষ থেকে ’৭৪-এর ডিসেম্বরে এবং ’৭৫-এর মার্চে সামরিক অভ্যুত্থানের বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

সতর্ক করার এ খবর উঠে এসেছে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জীবনীতে। এ ছাড়া সুইডেনে প্রকাশিত এক রিপোর্টেও ক্যু সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল।

অবশ্য মার্কিন দলিলপত্রে ’৭৪-এর মাঝামাঝি থেকে ধারাবাহিকভাবেই সম্ভাব্য ক্যু এবং তার পরবর্তী সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ছিল। কিন্তু সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিতেন মহান হৃদয়ের মানুষ বঙ্গবন্ধু। তার কাছে সবাই ছিলেন আপন। তিনি ভাবতেই পারতেন না বাংলাদেশের কেউ তার জীবনহানির কথা ভাবতে পারে।

ভারতীয় লেখক পুপুল জয়কর রচিত ‘ইন্দিরা গান্ধী : এ বায়োগ্রাফি’ বইতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে ১৫ আগস্টের প্রভাতের শুরুতে বিদ্রোহী সেনা দল কর্তৃক হত্যার সংবাদ দেয়। মুজিব, তাঁর স্ত্রী, তাঁর তিন পুত্র, তাঁর দু-পুত্রবধূ এবং তাঁর দু-ভাগ্নে নিহত হন। বার্ট্রান্ড রাসেলের নামানুসারে রাসেল নামে মুজিবের নয় বছর বয়স্ক পুত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। যখন সে তোপের ধ্বনি শোনার পরে বারান্দার দিকে দৌড়ে যায় তখন আমি আন্দাজ করতে পারি, এ সংবাদ ইন্দিরার ওপর কী প্রতিক্রিয়া করবে।

যদিও রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (RAW)-এর তৎকালীন প্রধান রামেশ্বর নাথ কাও ১৯৭৪ সাল থেকে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তথ্য পেয়েছেন। তাঁর (আর এন কাও) কাছে গোপন রিপোর্ট পৌঁছে যে, বাংলাদেশি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহ পাকিয়ে তোলা হচ্ছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ সম্পর্কে ইন্দিরা গান্ধীকে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন। পরে ইন্দিরা গান্ধী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুজিবকে অবহিত করার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠান।’

আর এন কাওর ভাষায়- “আমরা বাগানের মধ্যে পায়চারি করছিলাম। আমি মুজিবকে বলি যে, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য আছে; কিন্তু তিনি (বঙ্গবন্ধু) প্রফুল্ল অবস্থায় ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার কিছুই হতে পারে না, তারা আমার লোক।’ এমনকি যদিও আমি সুনির্দিষ্ট তথ্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তাঁকে দিয়েছি, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি।”

১৯৭৫ সালের মার্চ মাসে কাওয়ের কাছে আরও খবর পৌঁছে যায়। সেটা হলো, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে মুজিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সংগঠিত হচ্ছে। ইন্দিরা দ্রুতবেগে মুজিবকে অবহিত করেন, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতে অসম্মত হন; তিনি তো বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পিতা, তিনি তাঁর আপন লোকজনের হাতে গুপ্তহত্যার শিকারে পরিণত হতে পারেন না। প্রতিবেদনগুলো ১৯৭৪ সালেও হালনাগাদ ছিল যে, বাইরের দেশের শক্তি কর্তৃক ষড়যন্ত্রের কর্মসূচি পরিকল্পিত ও পরিচালিত হয়েছে।

পুপুল জয়কর বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর পাওয়ার পর ইন্দিরা গান্ধীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে লিখেছেন, ‘আমি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে সন্ধ্যার সময় তাঁর (ইন্দিরা গান্ধী) বাসভবনে যাই। আমি দেখতে পাই, একটা মহাআতঙ্ক তাঁর কাছে বড় হয়ে প্রতীয়মান হয়। তাঁর নিরাপত্তাহীনতার প্রবেশদ্বার অত্যন্ত খাড়াভাবে পড়ে যায়।

তিনি অনেক হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে শুনতে পান। যখন তিনি লালকেল্লার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে উদ্যত হন তখন যে বিশেষ ভাষণ তিনি প্রদান করেছিলেন তা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে প্রস্তুত করেন। কিন্তু যা তাঁর ঘোষণা করার কথা ছিল তা তাঁর মন থেকে মুছে যায়। তিনি (ইন্দিরা) আমাকে বলেন যে, মুজিব হত্যা হচ্ছে ষড়যন্ত্রের প্রথম ঘটনা। এটাই উপমহাদেশকে ডুবিয়ে দেবে।

প্রথমত, মুজিব প্রস্থান করলেন। প্রমাণ, যুক্তি ইত্যাদির সাহায্যে দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেন, পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হবেন তিনি নিজেই। মুজিবের শিশু ছেলেকে হত্যার সংবাদ সব স্বচ্ছ চিন্তাভাবনা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। ভয়ভীতিগুলো প্রকট আকার ধারণ করে।’

ইন্দিরা বলেন, ‘আমি গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো অগ্রাহ্য করেছি, কিন্তু তেমনটি আমি আর করতে পারি না। রাজীবের পুত্র রাহুল মুজিবের পুত্রের সমবয়স্ক। আগামীকাল তারও এমনটি হতে পারে। তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে ধ্বংস করতে চায়।’

জীবনী লেখক পুপুল জয়কর আরও লিখেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ইন্দিরার সঙ্গে মতবিনিময় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আমার সঙ্গে যখন দেখা দেন তখনও তার দুই চোখ সবসময় সতর্ক থাকতো।’

মার্কিন দলিলে অভ্যুত্থানের আলোচনা ’৭৪-এর শুরু থেকেই : ইউএস ওরাল হিস্টোরি প্রোগ্রামের আওতায় চার্লস স্টুয়ার্ট কেনেডি নামের এক ইতিহাসবিদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১৯৭৫ সালে ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশ ডেস্কের কর্মকর্তা স্টিফেন আইজেন ব্রাউন দাবি করেন, সম্ভাব্য সামরিক অভ্যুত্থান সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর খবরের ভিত্তিতে ঢাকার দূতাবাস থেকে শেখ মুজিবকে সতর্ক করা হয়েছিল।

এ কারণে তারা অভ্যুত্থানের খবর ও অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে জেনে খুব একটা বিস্ময়বোধ করেননি। অবশ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা বা বাংলাদেশে কোনো সেনা অভ্যুত্থান বিষয়ে ১৯৭৪ সালের শুরুর দিক থেকেই নানা ধরনের বার্তা চালাচালি করেছে ওয়াশিংটনে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এবং ঢাকা, দিল্লি ও ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাস।

সম্প্রতি উন্মোচন করে দেওয়া মার্কিন সিক্রেট বার্তাগুলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুজিবের সেনা মোতায়েন শিরোনামে ১৯৭৪ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো বার্তার বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশের বেসামরিক যোগাযোগ, দুর্নীতি, ভিন্নমতাবলম্বী উপদল, সেনা মোতায়েন। ’৭৪-এর ২ আগস্ট ঢাকা থেকে পাঠানো আরেক গোপন বার্তার শিরোনাম ছিল ‘সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে আরও বিস্তারিত।’ ’৭৪-এর ২৯ আগস্ট ওয়াশিংটন থেকে ঢাকার পরিস্থিতি জানতে চেয়ে পাঠানো তারবার্তার শিরোনাম ছিল, ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের অনুরোধ।’

আবার ’৭৪-এর ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো আরেকটি গোপন বার্তার শিরোনাম ‘অস্থিরতার সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন।’ ‘মিসেস গান্ধী এবং সিআইএ’ শিরোনামে আরেকটি বার্তা পাঠানো হয় ১৯৭৫ সালের ২৯ জুলাইয়ে। এমন আরও বেশ কিছু তারবার্তা ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়েছে। এগুলো নিয়ে ঢাকার এক স্বনামখ্যাত সাংবাদিকের বইও প্রকাশ হয়েছে।

আরও সতর্কতা : পুপুল জয়করের লেখা বইতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে করা সতর্কতার খবর ছাড়াও আরও কয়েক দফায় বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ের সাক্ষাৎকার ও প্রকাশিত বইয়ে উঠে এসেছে। যেমন ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বে থাকা ফখরুদ্দিন আহমেদ দাবি করেছেন, সুইডেনে প্রকাশিত এক রিপোর্টের আলোকে তিনি শেখ মুজিবকে সেনাবাহিনীর মধ্যকার ব্যাপক অসন্তোষ ও সম্ভাব্য ক্যু-এর বিষয়ে অবহিত করেন। এ ছাড়া সে সময়ের সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ব্রিগেডিয়ার রউফও এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুক রহমানের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক রেজিমেন্ট যে একটি সম্ভাব্য শোডাউন বা শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করতে পারে, সে ব্যাপারে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করেছিলেন। এমনকি তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহও পরবর্তী সময়ে দাবি করেছেন, রাষ্ট্রপতি মুজিবকে সম্ভাব্য সামরিক অভ্যুত্থানের বিষয়ে তিনি সতর্ক করেছিলেন।

সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!