শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

ব্লগার হত্যার ডীপ পলিটিক্স

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ১০ আগস্ট ২০১৫ - ০৯:২১:৫৭ এএম

জিয়া হাসান: জাতীয়তা, ধর্ম, পুঁজি- এই তিনটি মাধ্যমকে কেন্দ্র করে, এই পৃথিবীতে অনেক যুদ্ধ বিগ্রহ, বিরোধ, অশান্তি, হত্যা নির্যাতন হয়েছে।
কিন্তু, আপনি পৃথিবীর অতীত এবং বর্তমানের ইতিহাসকে যদি ঘনিষ্ঠভাবে দেখেন তবে দেখবেন, এই তিনটি মাধ্যম মূলত ব্যবহৃত হয়েছে, ক্ষমতার লড়াইয়ের হিসেবে নিকেশে। ইরাক থেকে সিরিয়া, সিসি থেকে আইসিস, নাইজেরিয়া থেকে বাংলাদেশে- কোথাও ধর্ম, কোথাও জাতীয়তা, কোথাও, পুঁজি – সকল দ্বন্দ্বের মূল- ক্ষমতার সুরক্ষা এবং অধিগ্রহণ।
তাই আজকের বাংলাদেশের ধর্ম নিয়ে বিরোধকেও, ক্ষমতার লড়াইয়ের হিসেবের বাহিরে দেখলে, নাবালকতা করবেন।
এবং বাংলাদেশের বর্তমান পলিটিক্স অনেক ডীপ পলিটিক্স। এইটা ৯০ সালের পরের বিশ বছরের জনগনের, এক দিনের বাদশাহীর পলিটিক্স না, যেইখানে, ইম্পারকফেশান থাকলেও, জনগনের ইচ্ছায় ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়েছে।
বাংলাদেশের এই ডীপ পলিটিক্সে, ১৬ কোটি মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটা সরকার ক্ষমতায় বসে আছে, যাকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে অনেক গুটি চালতে হয়। এই গুটি চালানো থেকেই, শাহবাগ হয়, রাজীব হত্যা হয়, মউলানা সাইদীকে চাঁদে দেখা যায়, হেফাজত মতিঝিলে নামে, যেখানে গভীর রাতে হামলা হয় আবার হাটহাজারিতে রেলওয়ে জমি ইজারা দেয়া হয় হেফাজতের মালিকদের মাদ্রাসার নামে।
আজকে তাই, প্রতি মাসে একজন করে ব্লগার হত্যা কে করেছে, কে করতে পারে -সেইটা যে যে যার যার পক্ষ মতে নির্ধারণ করে নিতে পারেন। কিন্তু ঘুরে ফিরে সত্য যেইটা ধ্রুব সেইটা হইলো, এই খুন, হত্যা, হত্যাকারীরা ক্ষমতার পলিটিক্সের একটা গুটি মাত্র।
সেই গুটি চাল সরকারও দিতে পারে, আবার মৌলবাদী জঙ্গিরাও দিতে পারে কিন্তু। কে কোন চাল দিচ্ছে সেইটা জানার ক্ষমতা আমাদের নাই। কিন্তু শুধুমাত্র, ইসলাম, মৌলবাদ এই প্রশ্ন দিয়ে- এই ঘটনাগুলোকে বিচার করলে, ভুল হবে । যে করবে, সে হয় অসৎ নয় নির্বোধ।
অবশ্য কে খুন করেছে কে করেনি, সেইটা বের করা পাবলিকের দায়িত্ব না। দায়িত্ব আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কিন্তু যেই দেশে মন্ত্রীরা ডিও পাঠিয়ে বলে, এই কেন্ডিডেট আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান, একে নিয়োগ দাও। যেই দেশে, পুলিশ, প্রশাসন এবং সরকার হাতে হাত মিলিয়ে লুণ্ঠনে মত্ত, সেই দেশে অপরাধের শাস্তি হবেনা এবং নতুন নতুন খুন হতে থাকবে, এক দল আরেক দলকে দোষারোপ করবে তাই নিত্যতা।
তাই যথেষ্ট ইনফরমেশান যেহেতু আমাদের নাই, তাই একটা নিরাবেগ প্লাটফর্ম থেকে দাড়িয়ে, আপনি একটা ক্রাইটেরিয়া ব্যবহার করতে পারেন, অপরাধী কে এই সিদ্ধান্তে আসতে।
সেই ক্রাইটেরিয়া হইলো এই ঘটনাগুলোর বেনেফিশিয়ারি কে ?
এই ডীপ পলিটিক্সের সময়ে, ক্ষমতার সুরক্ষা আর অধিগ্রহণের নব্য কাঠামোতে যাচাই করলে দেখবেন, বিগত প্রতিটা ব্লগার হত্যার প্রধান বেনেফিশিয়ারি রয়ে যাচ্ছে, ১৫২ টি সিট বিনা ভোটে নির্বাচিত একটি অনৈতিক সরকার যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের এক্সটেনশান হিসেবে দেশকে মৌলবাদে আক্রান্ত দেশ হিসেবে দেখিয়ে এই হত্যাগুলোর মাধ্যমে নিজের একটা গ্রহনযোগ্যতা সৃষ্টি করতে পারছে ।
কারন এই সরকার রং পাল্টানো গিরগিটির মত একই দিকে মদিনা সনদের সরকার আবার আরেক দিকে, ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার। এই সরকার এক দিকে অভিজিতের পিতাকে সহানুভূতি জানায় আরেক দিকে বলে অভিজিতের খুনিদের ধরা সম্ভব না। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদেরকে ধর্ম নিরপেক্ষ হিসেবেই দাবী করে, যা দেশে বিদেশে অনেক পক্ষকে সন্তুষ্ট করে।
আজ যদি পুলিশ বা আইন নিয়মিত বিরতিতে হয়ে যাওয়া এই খুনগুলোর বিচার করতে পারতো তবে আমরা সুনির্দিষ্ট ভাবে ধর্মীয় জঙ্গি বা তাদের কোন একটা দলকে পরিষ্কার ভাবে দায়ী করতে পারতাম। এবং তাদের শাস্তি চাইতাম। কিন্তু সেই সুযোগ তো নেই। কারন এতগুলো ঘটনা ঘটলো এমন কি একটা ঘটনায়, হাতে নাতে কিছু অপরাধীদেরকে ধরা হলো। কিন্তু তবুও নাটের গুরু কারা, তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে আর নিয়মিত বিরতিতে খুন হয়ে যাচ্ছে।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে বাংলাদেশের যে কোন অপরাধিকে খুঁজে বের করা সম্ভব, বলে আমরা জানি। কিন্তু যেহেতু এখনো নাটের গুরুরা আড়ালে এবং আসল অপরাধীকে ধরা যাচ্ছেনা তখন অন্তত, স্পেকুলেট করার ক্ষেত্রে আমরা শুধু মাত্র মৌলবাদ এবং জঙ্গি তত্ত্ব ব্যবহার করে যেতে পারছিনা।
প্রথম বার করলাম, ঠিক আছে। দ্বিতীয়বার দায়ী করলাম ঠিক আছে। কিন্তু মূল অপরাধী আড়ালে থাকায় বার বার দায়ী করতে গিয়ে এখন আরও পর্যালোচনা করতে হচ্ছে এবং এই প্রশাসনের নাকের ডগায় এই নিয়মিত হত্যাগুলোকে, শুধুমাত্র মৌলবাদ আর জঙ্গি মিলিয়ে আর পার করা যাচ্ছেনা।
অবশ্যই, আমরা ধর্মীয় জঙ্গিদের সন্দেহ করবো। এবং আমাদের মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নাস্তিকদের বা ইলসামি ধর্মবিরোধীদের ডিহিউমানাইজ করে তাদের খুন করার যে গ্রহনযোগ্যতা সৃষ্টি হয়েছে, সেইটাকেও আমাদের দায়ী করতে হবে।
কিন্তু, তারপরেও একটার পরে একটা হত্যার ঘটনাকে, শুধু জঙ্গি দেখিয়ে পার করা যাবেনা। আমি নিজেও, অনন্ত বিজয় দাশ, অভিজিৎ রায় এবং বাকি খুনগুলোর পরে, মৌলবাদী জঙ্গিদেরকে এবং খুনের প্রতি নীরব সমর্থনদান কারীদেরকে অভিযুক্ত করেছি।
কিন্তু, একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাওয়াতে, সেই সন্দেহের তালিকায় এখন ডীপ পলিটিক্সকেও ঢোকাতে হচ্ছে।
তাই আজকে আমাদেরকে বেনেফিশিয়ারি কে সেইটা যাচাই করে, সেই বেনেফিশিয়ারির শাস্তি চাইতে হবে, অথবা তার বেনেফিটটাকে অপরাধের মূল কারন হিসেবে দেখতে হবে।
বেনেফিশিয়ারিকে বেনেফিট অফ ডাউট আর দেয়া যাচ্ছেনা।
ইন্টেরেস্টিংলি খেয়াল করবেন, দায় স্বীকার করে যে মেইলটি আজ প্রচার হচ্ছে সেইটার দায় স্বীকারকারীরা এই প্রথম বারের মত নিজেদেরকে ভারতীয় উপমহাদেশের জঙ্গি হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। বাংলাদেশ পলিটিক্সে ধর্মীয় জঙ্গিদের এই লেটেস্ট ভারতীয় পরিচয় দাবী করার ঘটনা বর্তমান উপমহাদেশের রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করবে, যা ডীপ পলিটিক্সের খেলোয়াড়দের জন্যে নতুন সহযোগিতার দরোজা উন্মোচন করবে । সেই বেনেফিশিয়ারি থিওরি এপ্লাই করে দেখবেন, চরিত্রগুলো সঠিক সময়ে সঠিক কাজটাই করছে, যার বেনেফিশিয়ারি হচ্ছে ক্ষমতাধারীরা।
আরও দেখবেন, এখন যে ব্লগাররা খুন হচ্ছেন তারা খুব একটা এক্সট্রিম এথিস্ট না এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্লগার যাদের লেখা যথেষ্ট মডারেট। অভিজিৎ রায়, অনন্ত বিজয় দাশ্, নীলয় নীল। কেন? নিশ্চয়ই এই পরিচয়ের কোন মাজেজা আছে। যা বোঝার ক্ষমতা বা যথেষ্ট তথ্য আমাদের নাই।
কিন্তু, নাস্তিকদের হত্যার হুমকি আজকে অত্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে ঘটছে এবং এই ঘটনাগুলো পুরো বিশ্বে নিউজ হয় এবং আলোড়ন সৃষ্টি করে। ইতোপূর্বে অভিজিৎ রায়ের ঘটনায় এফবিআই পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘুরে গেছে। ফলে এই অপরাধীদের ধরার বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সচেতনতা থাকার কথা।
অবশ্যই, আমরা ধর্মীয় জঙ্গিদের দায়ী করবো। এবং আমাদের মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নাস্তিকদের বা ইলসামি ধর্মবিরোধীদের ডিহিউমানাইজ করে তাদের খুন করার যে গ্রহনযোগ্যতা সৃষ্টি হয়েছে, সেইটাকেও আমাদের দায়ী করতে হবে।
কিন্তু, অপরাধীদেরকে ধরার দায়িত্ব, ব্লগারদের রক্ষা করার দায়িত্ব এই অনৈতিক সরকারের, পুলিশ এবং বিচার বিভাগেরই। তাই প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ব্যর্থ, এবং আমাদের হাতে যখন যথেষ্ট ইনফরমেশান নাই তখন, খুঁজতে হবে বেনেফিশিয়ারি কে ?
এই বেনেফিশিয়ারি ক্রাইটেরিয়া দিয়েই এখন যাচাই করতে হবে, এই ডিপ পলিটিক্সের সময়ে, এই ক্ষমতা রক্ষা আর দখলের কাঠামোতে কে কাকে ছুরি ঢোকাচ্ছে।
ক্ষমা করবেন, নিলয় নীল, আপনার দেশকে।

লেখক: রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিশ্লেষক

এ বিভাগের জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!