শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ: মাংসের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ০৪ আগস্ট ২০১৫ - ০৩:৩৮:৪০ পিএম

টাইমস বিডি ডটনেট, ঢাকা : সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আমদানী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গরুর সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে গত ৩ মাসে দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। মাংস বিক্রেতারা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় গরুর সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে প্রতি কেজিতে ৬০-৭০ টাকা দাম বেড়েছে। শুধু তাই নয় কোথাও কোথাও ৮০-৯০ টাকা প্রতি কেজিতে বাড়তি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। যার দরুণ ক্রেতারা আমিষের চাহিদা মেটাতে উচ্চ দামে মাংস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
জানা গেছে, ভারত থেকে গরু আসা বন্ধের পর হঠাৎ করেই সুস্বাদু এ মাংসের দাম কেজিতে এক’শ টাকা বৃদ্ধিতে হতাশ ভোজনরসিকরা। তবে বিক্রেতারা বলছেন, প্রতি কেজি তিন’শ টাকা দরের মাংস কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় চার’শ টাকায় ওঠার পরও বিক্রি কমেনি মোটেও। অন্যদিকে বিশ্ব বাজারে কয়েক মাস আগেও গরুর মাংসের দাম কম থাকলেও এখন সেটা বিশ্ব ও দেশীয় বাজারে একই রকম। তবে গরুর মাংসের বর্তমান দামকেই প্রকৃত বাজার দর হিসেবে মেনে নেয়া উচিত বলে মনে করে প্রাণী সম্পদ গবেষণা ইনষ্টিটিউট।
দেশে প্রতিটি ব্যক্তি বছরে গড়ে ৮ কেজি মাংস খায়, এর মধ্যে বেশীরভাগ মানুষের লোভ থাকে গরুর মাংসে। বছরে প্রায় ৪০ লাখ টন গরুর মাংসের চাহিদার সিংহভাগ আসে প্রায় দেশে উৎপাদিত গরু থেকে। বাকিটার উৎস ভারতীয় গরু হলেও তা মূলত কোরবানির সময়ে আনা গরুর হিসেব ধরেই। অথচ ভারত সরকার গরু রপ্তানি বন্ধ ও সীমান্তে গরুর অনুপ্রবেশে কড়াকড়িতে দেশীয় গরুতে চাপ পড়ায় কেজিতে মাংসের দাম ১০০ টাকা বেড়ে গেছে। তবে বিক্রেতাদের মধ্যে অচেনা বক্তব্য, দাম বাড়লেও বিক্রিও বেড়েছে রসনাবিলাসের অন্যতম আকর্ষণ গরুর মাংসের। তাদের মতে, দাম বেড়েছে মূলত ভারতের গরু আমদানি বন্ধের কারণে।
মাংসের দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা নাখোশ হলেও, একেবারেই বিপরীত অবস্থানে খামারী ও গরু পালনকারী গ্রামীণ মানুষ, ভালো দাম ওঠায় আছেন খোশমেজাজে। সাভার ও ধামরাই ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি গরুর দাম ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেশী হওয়ায় উৎপাদন খরচ পুষিয়ে ভালো লাভের আশা করছেন গ্রামের মানুষ। একে ভারতের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে নতুন দিগন্ত খোলার সম্ভাবনা হিসেবে গরু পালনে সরকার মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হালচাষে গরুর বদলে যান্ত্রিক চাষাবাদ শুরু হওয়ার পর গ্রামগুলোতে আর আগের মত গোয়ালঘর নেই। সেইসঙ্গে হাইব্রিড ধানের খড়ে গরুর অরুচির কারণে গো-খাদ্য সংকটেও দুধের জন্য গরুর পালন ছেড়ে দিয়েছিলেন গ্রামিন জনগোষ্ঠী।
পরে সরকারের ঋণ, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ এবং বিকল্প গো খাদ্যের দিকনির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গে দুধের চাহিদা ও দাম বৃদ্ধির কারণে গরুর খামার এবং পারিবারিক গরু পালনে উৎসাহ বেড়ে যায়। তারপরও সাভার ও ধামরাইয়ের কৃষকদের মত অনেকেরই বেশী উৎপাদন খরচ আর ভারতের গরুর কারণে দাম নিয়ে হতাশা ছিলো। ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধের পর মাংসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে নগরবাসীর যখন কষ্ট, গ্রামের মানুষের তখন আনন্দ গরুর দামবৃদ্ধিতে।
আর এইটাই এতোদিন চাইছিলেন সরকারী সংস্থাগুলো, যারা চান ভারতের ওপর নির্ভরতা কাটুক, কৃষক পাক ভালো দাম, দেশ হোক স্বয়ংসম্পূর্ণ।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বললেন, উৎপাদনবৃদ্ধিতে প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটির ঋণ বরাদ্দের কথা। এরইমধ্যে ভালোজাতের গরুর শংকরায়ণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, ঘাষসহ গো-খাদ্যের সুলভ সরবরাহ করে গরুর সংখ্যা ও মান বাড়ানোর অনেকগুলো প্রকল্প সফল হয়েছে, অনেকগুলো চলমান রয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশী গরুর মাংস রপ্তানি করে অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রাজিল। আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, আর জাপানসহ আফ্রো-এশিয়ার কয়েকটি দেশ। গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশভেদ অনুযায়ী দামের প্রার্থক্য না করলে কেজি প্রতি গড় দাম চার’শ টাকার মতই। তাই বর্তমান দামকেই প্রকৃত বাজার উল্লেখ করে সরকার গরু আমদানি উৎসাহিত না করে বরং দেশে উৎপাদিত গরুর ভালো দামের সম্ভবনাকেই বড় করে দেখছে।
পুরাণ ঢাকার টিপু সুলতান রোডে নামকরা বাদশা মিয়ার দোকান, দিনে চল্লিশ মন মাংসও বিক্রি হয় এখানে। বাদশা মিয়ার মৃত্যুর পর চালাচ্ছেন তার ছেলে, তার সুপারিশ চামড়ার দর বাড়লেই কমবে মাংসের দাম। অতিরিক্ত চর্বির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির দুর্নাম থাকলেও চাহিদা কথা মাথায় রেখে উৎপাদন বাড়ানোর মত ক্রেতা-বিক্রেতা, সরকারের সংস্থাগুলোর।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!