শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

দুর্নীতির দায়ে দণ্ড মায়ার আপিল পুনঃশুনানির আবেদন দুদকের

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ২৬ জুলাই ২০১৫ - ১২:১৩:৫১ পিএম

টাইমস বিডি ডটনেট, ঢাকা: দুর্নীতির দায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার আপিল পুনঃশুনানির জন্য আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আপিল বিভাগের আদেশের প্রেক্ষিতে রোববার দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ওই আবেদন করেন।

বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টির শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার কার্যতালিকায় আসবে।

মায়াকে দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস দেওয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল করে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রায়ে মামলাটি হাইকোর্টে নতুন করে শুনানির আদেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ ১৪ জুন এ আদেশ দেন। এই বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীকে ১৩ বছরের কারাদ- দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদ-ের আদেশ দেন আদালত। ওই রায়ে আদালত অবৈধভাবে অর্জিত তাঁর ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী ওই রায় ঘোষণার সময় পলাতক ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ দুর্নীতির মামলা থেকে তাঁকে খালাস দেন। পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায় দুদক।

সেনা-সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ১৩ জুন রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির এই মামলাটি করে দুদক। ওই বছরের ২৫ অক্টোবর মায়া, তাঁর স্ত্রী পারভীন চৌধুরী, দুই ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী ও রাশেদুল হোসেন চৌধুরী এবং সাজেদুলের স্ত্রী সুবর্ণা চৌধুরীকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২ কোটি ৯৭ লাখ ৯ হাজার টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। ৫ কোটি ৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অর্জন করে ৬ কোটি ২৯ লাখ ২৩ হাজার টাকার সম্পদ নিজেদের দখলে রেখেছেন। ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি বিচারিক আদালত মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করলেও মামলার বাকি আসামিদের খালাস দেন।

২৪ জুন মায়ার মামলা নিয়ে আপিল বিভাগের ওই আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়। আপিল বিভাগ এই আদেশে বলেছেন, বিচারিক বিবেচনা (জুডিশিয়াল মাইন্ড) প্রয়োগ না করে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ জন্য হাইকোর্টকে নতুন করে সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

আপিল বিভাগ বলেছেন, প্রধানত যে কারণে হাইকোর্ট মায়াকে খালাস দিয়েছেন তা হলো দুদক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও তাঁকে আইনি নোটিশ দেয়নি। কিন্তু বিচারিক আদালত যেসব কারণে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন, সেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ হাইকোর্ট বিচার-বিশ্লেষণই করেননি। অথচ এটা প্রতিষ্ঠিত যে ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৭ ধারার অধীনে অপরাধের বিচারের জন্য কোনো নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

দুদক আইনের ২৭ ধারায় জ্ঞাত আয়ের উৎস-সম্পর্কিত সম্পত্তির দখল-সম্পর্কিত অপরাধের বিচারের বিধান রয়েছে। এই ধারায় কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর এবং সর্বনিম্ন তিন বছরের কারাদ-।

যে যুক্তিতে হাইকোর্ট মায়াকে খালাস দিয়েছেন, সে যুক্তিকে ‘দুর্বল’ মনে করে আপিল বিভাগ আদেশে আরও বলেছেন, এ জন্য মামলাটি শুরু থেকে আবার শুনানির জন্য হাইকোর্টে ফেরত পাঠানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

আপিল বিভাগের রায়ের পর মায়ার মন্ত্রী ও সাংসদ পদে থাকা সমীচীন নয় বলে মনে করেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আপিল বিভাগের লিখিত আদেশ প্রকাশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, এ অবস্থায় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদে থাকা সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, তিনি নৈতিকতার স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং আপিলে এখনো তিনি নির্দোষ সাব্যস্ত হননি। এ বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ, এ নিয়ে জাতীয় সংসদে একটি বিতর্ক হওয়া উচিত।’

সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকবার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁর মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।

আপিল বিভাগের রায়ের ফলে মায়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের রায় কি এখন বহাল হয়ে গেল? এমন প্রশ্নের জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘বিচারিক আদালতের রায় রাখা যাবে কি না, তা এখন হাইকোর্ট পুনঃশুনানি করে দেখবেন।’

সূত্রঃ শীর্ষ নিউজ

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!