শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

চ্যাম্পিয়ন রংপুরকে হারিয়ে শুভসূচনা চিটাগংয়ের

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ০৫ জানুয়ারী ২০১৯ - ০৪:১৪:০০ পিএম

লক্ষ্যটা মাত্র ৯৯ রানের, হাতে রয়েছে পুরো ১২০ বল। রয়ে সয়ে খেলেই আরামেই জেতা যায় ম্যাচ। কিন্তু এতো সহজেই জয় পেলে কি আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচের উত্তেজনাটা পাওয়া যায়? সে উত্তেজনা এনে দিতেই যেনো ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টা করেন চিটাগং ভাইকিংসের ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ।

তা বুঝতে পেরে লেন্থ খাটো করে দেন রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাথে হালকা ইনসুইং করায় পুরোপুরি পরাস্ত হন শাহজাদ। মাঝ ব্যাটের বদলে ব্যাটের উপরের কানায় লেগে বল উঠে যায় আকাশে। কিন্তু সৌভাগ্যবশত খালি জায়গায় পড়ায় বেঁচে যান শাহজাদ, পেয়ে যান এক রান।

চিটাগং ভাইকিংসের ইনিংসের এই প্রথম বলটিই যেনো হয়ে থাকলো উদ্বোধনী ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রতিকী চিত্র। যেখানে পুরো ইনিংসজুড়েই সম্ভাবনা জাগিয়েছেন মাশরাফি, নাজমুল অপুরা। কিন্তু বারবারই অল্পের জন্য বেঁচেছেন ভাইকিংস ব্যাটসম্যানরা। শেষপর্যন্ত পাঁচ বল হাতে রেখে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় চিটাগং ভাইকিংস।

রান তাড়া করতে নেমে একপ্রান্ত থেকে আফগান শাহজাদ মারমুখী ব্যাটিং করলেও অপরপ্রান্তে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউই। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ক্যামেরন ডেলপোর্ট এবং পরের ওভারেই সাজঘরে ফিরে যান মোহাম্মদ আশরাফুল।

ইনিংসের প্রথম ছক্কা হাঁকালেও মাত্র ৮ রানই করতে পেরেছেন ডেলপোর্ট। রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার বোলিংয়ে অ্যালেক্স হেলসের হাতে ধরা পড়েন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পরে বিপিএল খেলতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি মোহাম্মদ আশরাফুলও।

শুরুটা দেখেশুনে সিঙ্গেল নিয়েই করেছিলেন আশরাফুল। কিন্তু মুখোমুখি পঞ্চম বলে বড় শট খেলতে গিয়েই ধরা পড়েন থার্ডম্যান ফিল্ডারের হাতে। নামের পাশে যোগ করতে পেরেছেন মাত্র ৩ রান। মাত্র ১৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় চিটাগং।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও শাহজাদ। দুজন মিলে যোগ করেন ৩২ রান। অষ্টম ওভারেই দলীয় পঞ্চাশ পূরণ করে সহজ জয়ের দিকেই এগুচ্ছিলো চিটাগং। কিন্তু তখনই শাহজাদকে লেগ বিফোর উইকেটে পরিণত করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন বেনি হাওয়েল।

আউট হওয়ার আগে ৪ চারের মারের ২৩ বলে ২৭ রান করে শাহজাদ। তখনো টিকে ছিলেন মুশফিক। একপ্রান্ত আগলে রেখে তিনি দলকে জয়ের কাছে নিতে থাকলেও অপর প্রান্তে কেউই সঙ্গ দেননি তেমনভাবে। সিকান্দার রাজা ৩ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ২ রান করে আউট হলে চাপে পড়ে যায় চিটাগং।

তবে তরুণ অফস্পিনার নাঈম হাসান ১০ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলে মুশফিকের কাজ সহজ হয়ে যায়। তাকে বোল্ড করে রংপুরের আশা জাগিয়ে তোলেন মাশরাফি। পরের ওভারেই মুশফিকও ফিরে গেলে ম্যাচ জমে ওঠে।

তবে শেষদিকে চিটাগংয়ের রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন বল হাতে ৪ উইকেট নেয়া রবি ফ্রাইলিংক। সানজামুল ইসলামের সাথে অবিচ্ছিন্ন ১৬ রানের অষ্টম উইকেট জুটি গড়ে ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। ফ্রাইলিংক ১২ এবং সানজামুল ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

রংপুরের পক্ষে বল হাতে ২ উইকেট নেন মাশরাফি। এছাড়া ১টি করে উইকেট দখল করেন শফিউল, হাওয়েল, ফরহাদ রেজা এবং নাজমুল অপু। ব্যাটে-বলে সমান অবদান রেখে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন চিটাগংয়ের ফ্রাইলিংক।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারটা দেখেশুনেই কাটিয়ে দিয়েছিলেন রংপুর ওপেনার মেহেদি মারুফ। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইক পান হেলস। রবি ফ্রাইলিংকের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারী সময়মতো ব্যাট চালাতে ব্যর্থ হলে আঘাত হানে প্যাডে।

জোরালো আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ থাকলেও তা নেননি হেলস। রিপ্লেতে দেখা যায় আম্পায়ার্স কলে আউটই থাকতেন হেলস। ষষ্ঠ আসরে প্রথম উইকেট নেন ফ্রাইলিংক।

দ্বিতীয় উইকেটটাও যায় ফ্রাইলিংকের নামেই। একই ওভারের চতুর্থ বলে সরাসরি বোল্ড করে দেন মোহাম্মদ মিঠুনকে। হেলসের মতো তিনিও ব্যর্থ হন রানের খাতা খুলতে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরের বিপদ আরও বেড়ে যায় তৃতীয় ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকান মারকুটে ব্যাটসম্যান রিলে রুশো উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরলে। মাত্র ১০ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রংপুর।

সেই চাপ সামাল দেয়ার বদলে আরও বাড়িয়ে দেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মেহেদি মারুফ। রবি ফ্রাইলিংকের তৃতীয় শিকার হওয়ার পথে তিনি ধরা পড়েন সানজামুল ইসলামের হাতে। তারপর নাঈমের বলে আবু জায়েদের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন বেনি হাওয়েল। তখনো পর্যন্ত দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮ রান করেন তিনি।

ব্যর্থতার ধারা বজায় রেখে দলীয় ৩২ রানের মাথায় ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ফরহাদ রেজা। তরুণ অফস্পিনার নাঈম হাসানের বোলিংয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে ধরা পোড়ার আগে তিনি করেন মাত্র ৩ রান।

ষষ্ঠ উইকেটের পতনে উইকেটে আসেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। চাপের মুখে রয়েসয়ে ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। সানজামুলের ইসলামের এক ওভার পুরো মেইডেনই দিয়ে দেন। কিন্তু এক ওভারের পরেই খালেদ আহমেদ বোলিংয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে নিজের উইকেট হারান মাশরাফি।

আউট হওয়ার আগে ২ রান করতে ১১টি বল খেলেন মাশরাফি। পরে রংপুরের আশার প্রদীপ জালিয়ে রেখে অষ্টম উইকেটে সোহাগ গাজীকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারা।

মাত্র ৩৫ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর শঙ্কা জেগেছিল পঞ্চাশের নিচেই অলআউট হয়ে যাওয়ার। তবে অষ্টম উইকেট জুটিতে দলের মান রক্ষা করেছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারা এবং দেশি অফস্পিনার সোহাগ গাজী। দুজন মিলে ৪৯ রানের জুটি গড়ে দলীয় সংগ্রহটা ভদ্রস্থ করতে পেরেছেন।

তবে বোপারা-গাজীর চেষ্টার পরেও শতরান করতে পারেনি বিপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল রংপুর রাইডার্স। নির্ধারিত ২০ ওভারে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ৯৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে তারা। ম্যাচ জিততে চিটাগংস ভাইকিংসকে করতে হবে মাত্র ৯৯ রান।

রংপুরের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেছেন বোপারা। ৪৭ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কার মারে এ রান করেন তিনি। এছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন কেবল গাজী। ৩ চারের মারে ১৭ বলে ২১ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। আর কেউই ন্যুনতম ১০ রানও করতে পারেননি।

চিটাগং ভাইকিংসের পক্ষে বল হাতে বাজিমাত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার রবি ফ্রাইলিংক। ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র মাত্র ১৪ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এছাড়া আবু জায়েদ রাহী ও নাঈম হাসান নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।

এ বিভাগের জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!