শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

বিনিয়োগকারীদের ৮০ কোটি টাকা আটকে আছে দুই প্রতিষ্ঠানে

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ০৫ মার্চ ২০১৯ - ০৯:৩৩:১৯ এএম

বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার পর আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে বস্ত্র খাতের দুই প্রতিষ্ঠান সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল ও তুংহাই নিটিং। বর্তমানে দুটি প্রতিষ্ঠানেরই উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শেয়ারের দরও রয়েছে তলানিতে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান দুটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যায় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা উভয় কোম্পানির ফ্যাক্টরি ও প্রধান কার্যালয় বন্ধ দেখতে পায়। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত বছর থেকে দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে দুটি কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে। আরও চারটি প্রতিষ্ঠান তালিকাচ্যুত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র জানায় বিএসইসি থেকে সবুজ সংকেত পেলেই এ কোম্পানিগুলোকে মূল মার্কেট থেকে তালিকাচ্যুত করে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে পাঠানো হবে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বস্ত্র খাতের দুই কোম্পানি সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল এবং তুংহাই নিটিংয়ের কারখানা পরিদর্শনে যায় ডিএসই। ফলে অধিকতর তদন্ত না করেই ফিরে এসেছে তারা।
প্রাপ্ত তথ্যমতে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তখন প্রতিষ্ঠানটি বিনিযোগকারীদের কাছ থেকে ৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তালিকাভুক্তির আগে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলেও পুঁজিবাজারে আসার পরই অবস্থা দুর্বল হয়ে যায়। পরে পারিবারিক কলহে এ কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও বিগত সাতটি প্রান্তিকের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে তুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক হিসাব প্রকাশ বন্ধ রয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চের পরে কোনো আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। পরিচালকদের অন্তঃকলহে বন্ধ রয়েছে উৎপাদন। অবস্থান করছে সর্বনিম্ন ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে। কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে ৩৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে।
এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ বর্তমানে এসব শেয়ারদর সর্বনিম্ন অবস্থানে অবস্থান করছে। বর্তমানে তুংহাই নিটিংয়ের শেয়ার চার টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। যদিও কিছুদিন আগে এ শেয়ার তিন টাকা ৭০ পয়সায় নেমে আসে। এই প্রতিষ্ঠানের মোট শেয়ারের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে। এছাড়া পরিচালকদের কাছে ৩০ দশমিক শূন্য চার শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে পাঁচ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার।
অন্যদিকে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের শেয়ার বর্তমানে তিন টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। গত এক বছরের লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার সর্বোচ্চ আট টাকা ৪০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন তিন টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়। প্রতিষ্ঠানের মোট শেয়ারের ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে। এছাড়া ২২ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে পরিচালকদের কাছে। বাকি ১৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে।
এদিকে প্রতিষ্ঠান দুটির এই অবস্থার জন্য দুর্বল কোম্পানির আইপিও অনুমোদনকে দায়ী করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, আইপিও অনুমোদন দেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করলে এমন সব কোম্পানির তালিকাভুক্তি বন্ধ হবে। জানতে চাইলে ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজবী বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা কখন কেমন হবে, তা কেউ বলতে পারেন না। তবে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত। তাছাড়া কোম্পানি যদি ভালো ম্যানেজমেন্টের হাতে না পড়ে, তবে ওই প্রতিষ্ঠান রুগ্ণ হতে বেশি সময় লাগে না। তাই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের এই বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!