শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

লোকসানে পড়েছেন সাতক্ষীরার তিন হাজার কুলচাষী

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ০৩ মার্চ ২০২০ - ০৫:৫৫:১৪ পিএম

গত কয়েক বছর বাজারে কুল বরইয়ের দাম ভালো পেয়েছিলেন সাতক্ষীরার চাষীরা। এজন্য চলতি বছর কুল চাষের পরিমাণও বাড়িয়েছিলেন তারা। কিন্তু এ বছর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় চরম লোকসানে পড়েছেন কুলচাষীরা। গত বছর যে বরই প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার তা ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ দামে কুল বরই বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠবে না বলে জানিয়েছেন চাষীরা।

সাতক্ষীরা জেলায় আড়াই দশক ধরে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হচ্ছে। এসব কুলের মধ্যে বাউকুল, আপেল কুল, নারকেল কুল, বিলাতি কুল, নাইন্টি কুল ও মিষ্টিকুল অন্যতম। বর্তমানে জেলায় বাণিজ্যিক কুলবাগান রয়েছে ১ হাজার ২০০টি। এর সঙ্গে জড়িত তিন হাজার চাষী।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার সাত উপজেলায় ৮৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কুলের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৩০০, তালায় ২৬৫, দেবহাটায় ৩৫, কালীগঞ্জে ২০, আশাশুনিতে ১৫ ও শ্যামনগরে ২৫ হেক্টর জমিতে কুলের চাষ হয়। এসব এলাকায় বাউকুল, আপেল কুল, নাইন্টি কুল, নারকেল কুল, বিলাতি কুল ও মিষ্টিকুলের চাষ হয়েছে বেশি।

সূত্রটি জানায়, গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে কুলের চাষ বেড়েছে ২২০ হেক্টর। ২০১৮-১৯ মৌসুমে জেলায় কুল চাষ হয়েছিল ৬২০ হেক্টর জমিতে। সেখানে চলতি বছর ৮৪০ হেক্টরে ফলটির চাষ হয়।

জেলার কলারোয়া উপজেলার কোমরপুর গ্রামের কুলচাষী লাল্টু হোসেন জানান, সাত-আট বছর ধরে কুল চাষ করছেন তিনি। চলতি মৌসুমেও আট বিঘা জমিতে বিলাতি ও আপেল কুল চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গাছে ব্যাপক ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ মণ কুল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বাজারে কুলের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। গত বছর এ সময় যে কুল প্রতি মণ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা দরে। তা এবার ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এ দামে বিক্রি করে খরচই ওঠানো যাবে না।

তিনি আরো বলেন, গাছে ফুল আসার পর ভিটামিন স্প্রে, সার এবং অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করে বিঘায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত বাগানের ৭০ শতাংশ কুল বিক্রি করেছি। কিন্তু বর্তমানে বাজারে চাহিদা না থাকায় গাছের বাকি কুল বিক্রি করতে পারছি না।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের কুলচাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে আপেল কুল চাষ করেছি। গত বছর একই পরিমাণ জমিতে কুল উৎপাদন করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। কিন্তু চলতি মৌসুমে কুলের দাম এতই মন্দা যে, কোনো রকম উৎপাদন খরচটা হয়তো উঠে আসতে পারে।

তিনি জানান, গত মৌসুমে আপেল কুল পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। এ বছর বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩০ টাকা কেজি দরে।

সাতক্ষীরা জেলা শহরের কুল বিক্রির অন্যতম মোকাম সুলতানপুর বাজারের ফল ও কাঁচামাল বিক্রি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রওশন আলী বলেন, কুলের দাম কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ একই সময় জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কুল বাজারে ওঠানো। মৌসুমের শুরু থেকে বিপুল পরিমাণ কুল বাজারে আসতে থাকে। যে কারণে চাষীরা ন্যায্য দাম পান না।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় কুলের চাষ বেড়েছে। এ জেলায় উৎপাদিত কুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে খুলনা, গোপালগঞ্জ, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এ বছর কুলের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে চাহিদা কম থাকায় কৃষকরা কুলের দাম পাচ্ছেন না।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!