শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

শ্যামলসহ তিন নেতার আর্থিক কেঙ্কোরীর অডিও ফাঁস

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ১৬ আগস্ট ২০২১ - ১০:৩৯:৫২ পিএম

ডেস্ক রিপোর্টঃ-

দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান খোকন ও ইকবাল হোসেন শ্যামল। তাঁদের নেতৃত্বেই হয় ৬০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি। মেয়াদের ২২ মাস অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি তাঁরা। তাদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে পদ দেয়ার অসংখ্য অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এমন কেলেঙ্কারীর কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতে মূল (বিএনপি) দলের নেতারা।

অভিযোগ রয়েছে, উৎকাচের বিনিময়ে বাছবিচার ছাড়াই কমিটি দেয় সুপার ফাইভের নেতারা। ভাগ-বাটোয়ারা করেই নানা পদে লোক বসাচ্ছেন তারা। এতে অযোগ্যরা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারলেও ত্যাগীরা উপেক্ষিত হচ্ছেন। কমিটি দেয়ার ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতাদের সুপারিশও মানছেন না তারা। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান শ্যামলের বিরুদ্ধে। তাকে জমি বিক্রি করেও টাকা দিয়েছেন কোনো এক উপজেলার পদপ্রত্যাশী।

জানা গেছে, নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জের কমিটি দিতে গিয়ে দুই পক্ষের থেকে ২৩ লাখ নিয়েছেন ছাত্রদলের সুপার টু’এর দু’জন নেতা। এরসঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। পরে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কমিটি স্থগিত করা হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান শ্যামল।

কাছে আর্থিক লেনদেনের একটি অডিও এসেছে। সেখানে কথা বলছেন রূপগঞ্জের ছাত্রদলের ২ নং যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ এবং আরেক নেতা সুজন। অডিওতে শোনা গেছে, রূপগঞ্জে টাকা দেয়ার পরও যারা কমিটিতে জায়গা পাননি তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আহ্বায়ক করার কথা বলে মাসুম বিল্লাহর থেকে টাকা নিয়েছেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্রাবণ-সাধারণ সম্পাদক শ্যামল এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। এরমধ্যে মধ্যস্থা করেছেন রাজীব-আকরাম কমিটির জয়েন সেক্রেটারী মাহফুজ।

অডিওতে যা বলছেন..
মাসুম: খালি মোবাইল ব্যাস্ত মিয়া।
সুজন: মোবাইল ব্যস্ত দেখাচ্ছে? আমিতো কারো সাথে কথা বলতেছি না।
মাসুম: ধুর মিয়া কখন থেকে তোমারে ট্রাই করতেছি, খালি ব্যস্ত দেখাইতেছে। আমি কারলগে এতো কথা কইতেছে।
সুজন: আমিতো মাত্র খাওয়া দাওয়া করলাম। কারো সাথে কথাও কইলাম না।
মাসুম: তুমি কই?
সুজন: আমিতো বাসায়।
মাসুম: যেই কথাটা যেই বিষয়টা। যেটা নাকি তুমি টাকাটা শ্রাবণ ভাইকে দিয়েছো, সেটা কি মাহফুজ ভাই জানে।
সুজন: হুম
মাসুম: মাহফুজ ভাই জানে?
সুজন: হ
মাসুম: একলাখ টাকা দিছো এটা কি তোমার নিজের। মাহফুজ ভাই ইনস্টান্ড ওই জায়গায় ছিলো? একলাখ টাকা শ্রাবন ভাইকে দিছো।
সুজন: আমি নিজে দিছি।
মাসুম: শ্রাবণ সাথে আর কোনো লোক ছিলো? সাক্ষি রাখছো কোনো? ডায়রেক্ট নাকি পারসনাল দিছো।
সুজন: না, উনি (মৃদু হাসি) টাকা লইছে রাত দেড়টা বাজে। তখন সব ক্লিয়ার করে লইছে না? এটা আমি ওনার বাসায় গেছিলাম আমার কাছে পারসনাল চাইছে টাকা।
মাসুম: টোটাল কত চাইছে?
সুজন: আমার কাছে চাইছে আরো বেশি। আমি বলছি আমার কাছে ব্যবস্থা নাই। বলছে কারো কাছে বলিস না? আমি যেহেতু ওনারে চিনি মাহফুজ ভাইকে দিয়ে, মাহফুজকে না জানিয়ে ইয়া করে ফেলবো।
মাসুম: হুমম
সুজন: উনি বলছে কেউ যেন না জানে। ভাইরে কিভাবে কি বলি। একদিন গেছি ওনার বাসার নিচে। ওইদিনও টাকা নিয়ে গেছি। ওই দিন কম নিয়ে গেছি। ওইদিন মনে হয় ৪০ (৪০ হাজার) না যেন কত নিয়ে গেছি। বলতেছে, রাখ এটাতো আমার জন্য না। টিমেরে দিতে অইবো, টিমেরে দিতে অইবো। তখন টিমেরে দিতে অইবো পরে কয়, টিমে মনে করো চারজন আছে হ্যাগো লাগবে মনে করো মিনিমাম এক। পরে সেন্ট্রালরা আছে। এইডা হেইডা বেশি। ওনারটা বেশি।
মাসুম: পরে
সুজন: আমি মাহফুজ ভাইকে বলছি ভাই- এই এই ঘটনা। মাহফুজ ভাইরা কাছের লোক বা ছোট ভাই। আমারতো এইডা পারতে হইবো। কিন্তু যার মাধ্যমে এখানে গেলাম তারেতো জানাইতে হইবো বিষয় এইটা।
মাসুম: না, অবশ্যই। কি কয়।
সুজন: পরে ভাই কইতেছে। সে আবার বলছে কাউকে না জানাতে। ভাইয়ে যাতে না জানে।
মাসুম: কেডা না জানে? মাহফুজ ভাই?
সুজন: হ, মাহফুজ ভাই যেন না জানে।
মাসুম: ইশ!
সুজন: এইটা শ্রাবণ ভাই আমারে কইছে।
মাসুম: সরম সরম না?
সুজন: হ, সরম। উনি কইলেই কি? আমি মাহফুজ ভাইকে না জানাবো নাকি?
মাসুম: হুম
সুজন: পরে আমি ভাইরে ফোন দিলাম। বাহির হয়েই ফোন দিলাম। ভাই এই এই ঘটনা। সঙ্গে সঙ্গেই ফোন দিছি। উনি কইছে-কি কইতাম কন। ভাই দরকার নাই আর। এগুলো ঝামেলা। কারণ আমরা টেহা দিয়া পারতাম না। ভাইরে কইছি। কয়, আচ্চা ঠিক আছে। তুমি আইয়ো। পরে সোহেলরে কইছি। এই এই ঘটনা। সোহেল কয় আচ্ছা ঠিক আছে? নির্ধারিত একটা ডেট দিছে এতোদিন লাগতে পারে। তহন ওইতো টাকা যেটা ম্যানেজ করলেন সবাই মিলে। এই অবস্থা।
মাসুম: হ্যারে কত দিছিলা? ভাইরে?
সুজন: অ্যা
মাসুম: শ্রাবণ ভাইরে কত দিছিলা?
সুজন: ওইদিন পুরো
মাসুম: একলাখ টাকা দিছো। পরে আরো টেহা দিছো ভাইরে।
সুজন: ওনারে আগে পরে এগুলো আমার হাত দিয়ে কিছু হয় নাই। ওই জিনিসটা যে উনি মাহফুজ ভাইবে না জানাইতে। বিষয়টা মাহফুজ ভাই জানেই। যেহেতু কেউ না জানে- একলা যাইয়ো। তাই একলা গেছি।
মাসুম: ওই শুধু একলাখ টাকা দিয়া আইছো? টাকা নিয়েও কাজ করে নাই?
না।
মাসুম: মজাটা বুজবো হ্যায়। টেহা খাওয়ার মজাডা।
সুজন: কাজ করলেতো হইতোই।
মাসুম: আরেকটা বিষয় হইছে— আকরাম ভাই আমাগো থেকে কতো নিছে টোটাল।
সুজন: অনেক অনেক
মাসুম: আমি মাসুম বিল্লাহ আমি যে তোমাকে কথাগুলো বলছি। এগুলো তোমার আর আমার মধ্যে থাকবে। এগুলো মাহফুজ ভাই ও সোহেল ভাইর জানার দরকার নাই। আমাকে সেন্ট্রাল থেকে একজন ফোন দিছি তার সংগে কথা হইছে। কাউকে বলার দরকার নাই। আকরাম ভাই তোমার থেকে কতো নিছে। আমরাতো একদিন গিয়ে ২০ হাজার দিয়েছি। আর তোমার থেকে ভেঙে ভেঙে কতো নিছে?

সুজন: বলতে গেলে উনি একদিন গাড়ি পারপাস অনেক টাকা নিছে। গাড়ি ভাড়া করে দিতে হইছে। আমার জন্য একজনে ওনাকে ৫০ হাজার টাকা নিছে।
মাসুম: কেডা এইডা
সুজন: এক বড় ভাই। উনি রাজনীতির বাইরে।
মাসুম: তোমাকে কমিটিতে রাখার জন্যইতো টাকা দিছে?
সুজন: হুমম
মাসুম: শ্যামল ভাইয়ের কথা বলে নিয়েছে না আকরাম ভাই নিজে নিয়েছ।
সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!