শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

মাটির নিচে লিলিপুটের রহস্যময় গ্রাম

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ১৮ আগস্ট ২০২১ - ০১:৪৫:০৯ পিএম

ভ্রমণ ডেস্কঃ
মাটির নিচে লিলিপুটের রহস্যময় গ্রাম
মাটির নিচে বামনদের বাস। নিজেদের এক স্বর্গরাজ্য তৈরি করে বামনরা নিজেদের অস্তিত্ব গড়েছে সেখানে। বছরের পর বছর ধরে মাটির নিচে বসবাস, থাকা, খাওয়া সবই করছেন তারা। জানলে অবাক হবেন, বামনদের এই রহস্যময় গ্রামটি প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো।

ইরানের পূর্ব খোরাসান প্রদেশের প্রাচীন এই গ্রামের নাম মাখুনিক। এই গ্রামটি লিলিপুটদের গ্রাম হিসেবেই পরিচিত। এই গ্রামের সব ঘরগুলোই মাটির তৈরি। এসব ঘরের আকৃতি ও স্থাপত্য আপনার নজর কাড়বে। বিশ্বের সাতটি আশ্চর্য্যতম গ্রামের মধ্যে এটি অন্যতম।

এ কারণেই পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় এক স্থান হলো এই মাখুনিক গ্রাম। লিলিপুটদের শহর ও তাদের জীবন ব্যবস্থা দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ সেখানে ভিড় জমান। জানা যায়, সেখানকার বাসিন্দারা আফগানিস্তানের নাগরিক। কয়েকশ’ বছর আগে তারা মাখুনিক গ্রামে বসবাস শুরু করেন।

এ গ্রামের বাসিন্দাদের উচ্চতা সর্বোচ্চ ৫০ সেন্টিমিটার। বিশেষজ্ঞরা জানান, বামন বাসিন্দাদের মুষ্টিমেয় এখনও সেখানে বসবাস করে। তারা নিজেদের মধ্যে বিবাহ, অপুষ্টিসহ পারদ মেশানো পানি পান করার ফলে পুরো গ্রামের বাসিন্দারাই বামন আকৃতির হয়েছেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মাখুনিক গ্রামটি তার স্থাপত্যের জন্যও বেশ পরিচিত। সেখানকার বাসিন্দারা নব্যপ্রস্তরযুগের স্থাপত্য শৈলীর ভিত্তিতে ঘরগুলো নির্মাণ করে। এসব ঘরগুলো এমনভাবে মাটি দিয়ে তৈরি করা হয় যা, দূর থেকে দেখলে পাহাড় বা টিলার মতো দেখায়।

এসব ঘরগুলোর প্রাচীর ও দরজাগুলো খুবই ক্ষুদ্র আকৃতির। এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘরগুলো পাহাড়ের ঢালে একটার পর একটা নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরগুলো দেখতে অনেকটা গুহার মতো। এগুলো পাথর ও মাটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়। ঘরের ছাদ ঢাকা হয় ঝোপঝাড় দিয়ে। ঘরের দরজাগুলোও বেশ ছোট ছোট।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলেঅ, তথ্য প্রযুক্তির এ যুগেও ওই গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরে একটি টিভিও নেই। তাদের বিশ্বাস টিভি রাখা শয়তানের কাজ। গ্রামের বাসিন্দাদের অধিকাংশই গবাদিপশু পালন ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাদের কেউ কেউ গ্রামের কাছে একটি খনিতে কাজ করে।

এমনকি এ গ্রামের কেউই ধূমপান করেন না। এখানে উত্পাদিত কৃষি পণ্যের অধিকাংশই গম, রসুন, শালগম, বিটরুট, গাজর, টমেটো, পেঁয়াজ এবং জাফরান। গ্রামের বাসিন্দারা ফারসিতে স্থানীয় বিশেষ বাচনভঙ্গিতে কথা বলে।

প্রায় একশ বছর আগে মানুষ এই গ্রামটির অস্তিত্ব খুঁজে পায়। গ্রামটিতে বর্তমানে পানি, বিদ্যুত্, একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, একটি প্রাথমিক স্কুল, একটি বাথরুম রয়েছে। সেই সঙ্গে মুদি দোকান, কসাইখানা ও বেকারীসহ কয়েকটি দোকান আছে।

২০০৫ সালে এই গ্রামে গবেষকরা ২৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি মমি খুঁজে পান। তারপর থেকে তারা বিশ্বাস করেন, মাখুনিকসহ আশেপাশের গ্রামে একসময় বেটে মানুষদের বসবাস ছিল। প্রত্নতত্ত্ববিদরা এই গ্রাম নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন। বাড়িগুলোর আকার-আকৃতিই বলে দেয় যে, সেখানকার মানুষ ছোট আকৃতির ছিল।

এই গ্রামে বর্তমানে ৭০০ বামন বাসিন্দা বাস করেন। তারা অবশ্য তাদের পূর্বপুরুষদের মতো অতটা খাটো নয়। তবে তাদের বাড়িগুলো পূর্ব পুরুষদের মতোই। পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে প্রাচীন নকশার ছোট উচ্চতার বাড়িতে তারা অবস্থান করেন।

১৯৪৬ সালে গ্রামটির অস্তিত্ব আবিষ্কার হয়। ধীরে ধীরে পাহাড়ের ভেতর দিয়ে রাস্তাও তৈরি হয়। বাইরে থেকে যানবাহনের যাতায়ত শুরু করে। মানুষের জীবনযাত্রাও কিছুটা পাল্টাতে থাকে। তারপরও এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ নয়।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!