শিরোনাম
নব নির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব হাবীব হাসানের কাছে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের প্রত্যাশা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ ৩টি রকেট আঘাত হানলো বাগদাদের মার্কিন দূতাবাদের কাছে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদার জামিন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শাবানা আজমি: ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি সমর্থকরা সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক বিপিএল-এ এবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা জরুরি বৈঠকে যাবে না তৃণমূল কংগ্রেস নতুন কমিশন অনুযায়ী সাপ্তাহিক মজুরি পেতে শুরু করেছে পাটকল শ্রমিকরা

“গরীব কবি” পেশায় বালু শ্রমিক; লিখেছেন ২৪০০ কবিতা

উত্তরা টাইমস
সম্পাদনাঃ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ - ০২:৪০:৩৭ পিএম

ঝিনাইদহ থেকেঃ-
মানুষ তো মানুষই হয় তারই জলজ্যন্ত প্রমাণ দিয়ে, পৃথিবীতে নানান পেশার মানুষ তার কর্মের মধ্যে বেচে আছে। ‘গরিব কবি’ হিসেবে পরিচিত গুলজার হোসেন গরিব। তিনি পেশায় বালু শ্রমিক। শহরের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক থেকে বালু নামিয়ে যা় আয় হয় তা দিয়েই সংসার চালান। সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পর সামান্য অবসর সময় পেলেই লিখে ফেলেন কবিতা। সুযোগ পেলে আবৃত্তিও করেন। এ পর্যন্ত ২৪০০ কবিতা লিখেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের গুলজার হোসেন গরিব। শুধু তাই নয়, ২১০টি গানের পাশাপাশি ১০টি প্রবন্ধও লিখেছেন চতুর্থ শ্রেণির গণ্ডি না পেরোনো এ শ্রমিক।

আর্থিক দৈন্যতার কারণে মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই শিক্ষাজীবনের ইতি টানেন গুলজার হোসেন। ১০ বছর বয়স থেকেই কৃষিকাজে বাবাকে সহযোগিতা করতে শুরু করেন। বয়স কিছুটা বাড়লে শুরু হয় জীবন সংগ্রাম। আইসক্রিম বিক্রি, ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। এর মাঝেই সময় পেলে বই পড়তেন। বই পড়তে পড়তেই কবিতার জগতে প্রবেশ তার।

২০০১ সালে ‘আহ্বান’ নামে একটি কবিতা লেখার মধ্য দিয়েই হাতেখড়ি গুলজার হোসেন গরিবের। প্রথম কবিতা দেখে স্বজন ও বন্ধুদের বাহবা পেয়ে বেড়ে যায় তার উৎসাহ। একে একে লেখেন ‘গভীর রাত’, ‘তোমাকে হত্যার পর’, ‘গরিবের বিদ্বেষ’, ‘প্রিয় সাবির হাকা’, ‘এখানে যা নেই’, করোনা নিয়ে ‘ভাইরাস’সহ ২৪০০ কবিতা। ১০টি প্রবন্ধও লিখেছেন তিনি, নিজের কণ্ঠে আবৃত্তিও করেন। লিখেছেন ২১০টি গানও।

গুলজার হোসেন বলেন, পড়াশোনার প্রতি খুবই আগ্রহ ছিল কিন্তুু অভাবের কারণে লেখাপড়া বেশি করতে পারিনি। কবিতার প্রতি আমার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। ২০০১ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করি, এখনো লিখে যাচ্ছি। ২০০৫ সাল থেকে বালু শ্রমিকের কাজ শুরু করি। আগে ২৫০-৩০০ টাকা পেতাম, এখন ৫০০-৬০০ টাকা পাই। নিজে স্কুলে যেতে পারিনি। তবে দুই সন্তানকে পড়াচ্ছি। মেয়ে মিতা নূর এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। ছেলে একরামুল কবির নবম শ্রেণিতে পড়ছে।

ঝিনাইদহের কবি ও গবেষক সুমন সিকদার বলেন, কম শিক্ষিত হলেও গুলজার প্রচুর পড়াশোনা করেন। তার কবিতা মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। এভাবে চর্চা করলে আরো ভালো করবেন তিনি।

ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, গরিব অত্যন্ত সংগ্রামী একজন মানুষ। তার কবিতায় বাঙালি ও শ্রমিক শ্রেণির বঞ্চনার কথা থাকে। শুধু তাই না সে নিজে শ্রমিক হলেও শ্রমিক শ্রেণির মানুষের উপকারে কাজ করে। পৌরসভা, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে বালি শ্রমিকদের মাঝে বিতরণও করেন। আমরা তার সফলতা কামনা করি।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর

Uttara Times

Like us on Facebook!
Sign up for our Newsletter

Enter your email and stay on top of things,

Subscribe!